12:59pm  Thursday, 22 Oct 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  ২২ অক্টোবর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা     »  দিনাজপুরে আগাম শীতকালীন সব্জি     »  দিনাজপুরে পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্যপ্রার্থীদের দৌঁড়-ঝাপ !     »  শারদীয় দূর্গোৎসব উৎযাপন উপলক্ষে ৬ দিন বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দর     »  ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার চ্যানেল আইতে দেখবেন     »  ক্যাশ আউট খরচ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে নগদ     »  বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাতা সম্মেলন      »  সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হক লাইফ সাপোর্টে      »  দেশে আসলেই পিকে হালদারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট     »  দুঃখ সইতে না পেরে ক্রাচে ভর দিয়ে এসে ট্রেনের নিচে পেতে দিলেন মাথা   



পতনে পতনে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার
১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০১ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১



অর্থনীতির উত্থানের মধ্যে যেখানে সামনে এগোনোর কথা, উল্টো সূচক ফিরে গেছে প্রায় পাঁচ বছর আগের অবস্থানে। গেল এক বছরে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। পতনে পতনে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। বলা যায়, অর্থনীতির অন্যতম এ অঙ্গটি নীরবেই তলিয়ে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চলছে পুঁজি হারানোর হাহাকার। বছরজুড়ে বাজার পতনের বৃত্তে থাকলেও গেল দুই দিন সূচকের এমন নিষ্ঠুর পতন হয়েছে যে তা বিনিয়োগকারীদের মনোবল একেবারে ভেঙেচুরে তছনছ করে দিয়েছে। ছোট-বড় প্রায় সব বিনিয়োগকারীই বাজারের চলমান পরিস্থিতিতে রীতিমতো বাকরুদ্ধ। প্রতিবাদে মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্লেষকরা এ পতনের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসির নেতৃত্বের ব্যর্থতা, বাজারে আস্থাহীনতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে চলে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ‘ফলিং নাইফ’ বা পতনশীল ছুরির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার সর্বোত্তম প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন। আর বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় ঠিক করতে আগামী সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বৈঠকে বসছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৮৭ পয়েন্ট কমেছে। আগের দিন সূচক কমেছিল ৮৮ পয়েন্ট। সেই হিসাবে দুই দিন পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটেছে এবং মোট সূচক কমেছে ১৭৫ পয়েন্ট। আর চলতি বছরের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাত দিনই বড় পতন ঘটেছে। এ সময় ডিএসইর সূচক কমেছে ৪১৪ পয়েন্ট।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দেশের ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাজার নির্দেশক প্রধান মূল্যসূচক ছিল চার হাজার ৯৫১ পয়েন্ট। বাজারে বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের মূল্য বা বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৩০ হাজার ৭৯ কোটি টাকা।

গতকাল ১৪ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মূল্যসূচক নেমে এসেছে চার হাজার ৩৬ পয়েন্টে। আর বাজার মূলধন কমে হয়েছে তিন লাখ ১৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়েছেন। লোকসান হলেও শেয়ার বিক্রি করে অবশিষ্ট মূলধন তুলে নিতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কে কার আগে শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়বেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়ছেন। ২০১৯ সালের হিসাবে বিদেশিরা যে পরিমাণ শেয়ার কিনছেন, তার বেশি বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। গত এক বছরে বিদেশিরা তিন হাজার ৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন কিন্তু বিক্রি করেছেন চার হাজার ১৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার। মূলত বিদেশিরা গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসির বকেয়া আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেও অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।

বাজারের সঙ্গে জড়িত স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিয়ম লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। অনিয়ম করে নিয়োগ পাওয়া কমিশন পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আনতে পারেনি। আইনগত নানা সহায়তা দিলেও বাজার গতিশীল হয়নি।

সম্প্রতি বাজারের প্রাইমারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নিয়েও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে পর্ষদ। এই দ্বিধাবিভক্তির কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি অনাস্থা চরমে পৌঁছেছে। ডিএসইতে চারজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালকের মধ্যে তিনজন পর্ষদ কর্তৃক বাছাই করা কাজী ছানাউল হককে এমডি নিয়োগ দিতে আপত্তি তুলেছে। এ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ অব্যাহত শেয়ার বিক্রি করছে।

২০১০ সালে বড় ধসের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণে ২০১৩ সালে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে অর্ধশতাধিক কম্পানি শেয়ার ছেড়ে মূলধন উত্তোলন করেছে। নতুন বিনিয়োগকারীও বাজারে এসেছে। ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকের পর নতুন পণ্য বাজারে আনতে আইন-কানুনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল বাজারের পাশাপাশি স্বল্প মূলধনী কম্পানির তালিকাভুক্তি ও শেয়ার লেনদেনে স্মলক্যাপ বোর্ড প্রক্রিয়াধীন।

ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশনের শর্তানুযায়ী, কৌশলগত অংশীদার পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০১৯ সালে ডিএসইর ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। বিশ্বের প্রথম সারির স্টক এক্সচেঞ্জের অংশীদারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারী আকৃষ্টের প্রত্যাশা করা হয়। তবে তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও আবারও সেই পুরনো জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। ২০১৯ সালজুড়ে মন্দাবস্থার পর নতুন বছর ২০২০ সালেও পুঁজিবাজারে ধস অব্যাহত রয়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে বাজার, যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

২০১৯ সালে একটি বন্ড ও সাত কম্পানি শেয়ার ছেড়ে ৬১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূলধন তুলেছে। দুই কম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে। অপরদিকে ২০১৮ সালে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ ১৪ কম্পানি ৬০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে।

কমছে বাজার মূলধন: পুঁজিবাজারে বিক্রির চাপ থাকায় শেয়ারের দাম কমেই চলেছে। আর দাম কমে যাওয়ায় বাজার মূলধন কমছে। ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাজার মূলধন কমেছে ৯৯ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের দশ কার্যদিবসেই মূলধন কমেছে ২৬ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১৩ হাজার ২৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এক বছর পর বাজার মূলধন কমে এসেছে তিন লাখ ১৩ হাজার ৩৯৭ কোটি ৭২ লাখ টাকায়।

এদিকে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় এ পর্যন্ত যত প্রস্তাব এসেছে তার মধ্য থেকে সরকার সবচেয়ে ভালো প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ডিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে দেখা করলে গভর্নর এ কথা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই বৈঠকে পুঁজিবাজারের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় এ পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে উত্তম প্রস্তাব কোনটি-জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলসহ প্রায় ১২টি প্রস্তাব ডিএসইসির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তমটি বেছে নিতে সহায়তা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মতিঝিলে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ: পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনের প্রতিবাদে মতিঝিলে ডিএসইর পুরনো অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। লেনদেন শেষ হওয়ার পর দুপুর আড়াইটায় অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন । বিক্ষোভ থেকে বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনসহ কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তিলে তিলে শেষ হয়ে চলেছি। কিন্তু কেউ এর দায় নিচ্ছে না। বাজারকে গতিশীল করতে কারো উদ্যোগও নেই।’ এর আগে গেল সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর ডিএসই থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তাঁরা আর রাস্তায় নামেননি।

চার ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ : পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে সরকারি চার ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সীমা অনুযায়ী বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) নেতাদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এসব কথা জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। সাক্ষাতে বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মতিন অংশ নেন। ছায়েদুর রহমান পরে বলেন, ‘আলোচনায় তারল্য সংকট নিরসনে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও সাধ্যমতো বা সীমা অনুযায়ী বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি এগোলেও পুঁজিবাজার এগোচ্ছে না। বর্তমানে বিনিয়োগকারী ক্রমাগত শেয়ার বিক্রি করেই চলেছে। যার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই।’

পুঁজিবাজার তদারকি কমিটির সভা আগামী ২০ জানুয়ারি: পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত সমন্বয় ও তদারকি কমিটি সভা ডেকেছে আগামী ২০ জানুয়ারি। এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের-বিএমবিএ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব ড. নাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময়সভার প্রস্তাবগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নুর।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আস্থাহীনতায় বিনিয়োগকারীরা মুড়ির মতো শেয়ার বিক্রি করেই চলেছে। ভালো কম্পানির শেয়ারের দাম অনেক কমে গেছে। এখন শেয়ার কিনলে বিনিয়োগকারী লাভবান হবেন। অথবা হাতে থাকা শেয়ার ধরে রাখলেও লাভ হবেন। কিন্তু কেন বিক্রি করছে এর দৃশ্যমান কারণ নেই।’ তিনি বলেন, বাজারের ক্রমাগত পতনে কোনো কারসাজি আছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্যানিক থেকে শেয়ার বিক্রির ঘটনা ঘটছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, ‘বাজার উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে যে ধরনের সাপোর্ট দেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেটা করছি। আরো সাপোর্ট প্রয়োজন হলে দিতে প্রস্তুত কমিশন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এম এ বাকী খলিলী গতকাল বলেন, ‘আগে আস্থাহীনতার কথা আমরা বলতাম। তবে এখন বলছি, পুরো বাজারে আস্থাহীনতা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংকের বিনিয়োগ স্থবিরতা, ডিএসই ও বিএসইসির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। পুঁজিবাজার এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে তা আর ফান্ডামেন্টালের বিষয় নয়। বাজারে একটা বড় পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে।’

পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘পুঁজিবাজার অনেক সময় সার্বিক অর্থনীতির ভালো-মন্দের নির্দেশনা দেয়। বর্তমানে পুঁজিবাজার যে অবস্থায় আছে সেটা যদি সত্যি হয় তবে তা পুরো অর্থনীতির জন্য খারাপ খবর। পুঁজিবাজার খারাপ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সবার আগে পড়ে ব্যাংকিং খাতে। দেশের ব্যাংকব্যবস্থা এমনিতেই নাজুক অবস্থায় আছে। যদি তা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয় তবে এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে সার্বিক অর্থনীতিতে। একপর্যায়ে সরকার অর্থ সংকটে টাকা ছাপতে বাধ্য হবে।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এ রকম ঘটনা ঘটেছে আর্জেন্টিনা, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়েতে।’
এই নিউজ মোট   588    বার পড়া হয়েছে


শেয়ার বাজার



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.