02:58pm  Friday, 27 Nov 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  গরীবদের ঈদের দিন, আজ জুমা মোবারক      »  আজ ২৭ নভেম্বর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা     »  নেত্রকোনায় করোনা প্রতিরোধে অভিযান ও স্বাবলম্বীর অ্যাডভোকেসি সভা      »  বারহাট্টায় উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাকবিতন্ডা, সভা পন্ড     »  শিবগঞ্জে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান      »  গোবিন্দগঞ্জে আমন ধান সংগ্রহের শুভ উদ্বোধণ      »  গাইবান্ধায় হেলথ এ্যাসিসটেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতি পালিত     »  দিনাজপুরে শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো নেশাগ্রস্থ পিতা     »  নওগাঁর মহাদেবপুরে ছাগলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-১     »  তিনটি বস্তিতে ২৭ ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ড রহস্যজনক    



মা ও বোনের বর্ণনায় যা ঘটেছিল তিন্নীর আত্নহত্যার আগে
৩ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১৮ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২



বোনের সাবেক স্বামীর হাতে লাঞ্চিত হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে শেষ কথা ছিল, 'বাইরের লোক কেন আসবে আমার রুমে। আমারতো সব শেষ, বেঁচে থেকে লাভ কী?' এরপর রাত ১২টার দিকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতোকোত্তর উলফাত আরা তিন্নীর।

ওই রাতে তিন্নীর সঙ্গে যা ঘটে, তা উঠে এসেছে তার মা ও বোনের কথায়। শনিবার সেসব কথা জানিয়েছেন তারা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় তিন্নীর বাড়ি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের বাড়ি থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার হয়। মা হালিমা বেগম বলেন, বৃহম্পতিবার তিন্নী এক বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুষ্টিয়া গিয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরে রাত ৮টার দিকে। কিছু সময় পর তার মেজো মেয়ের তালাকপ্রাপ্ত স্বামী একই গ্রামের কনুর উদ্দিনের ছেলে জামিরুল গোপনে তিন্নীর রুমে ঢুকে এবং খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। তিন্নী বাইরে থেকে এসে পোশাক বদল করে বাসার নিচ তলায় তার সঙ্গে দেখা করে, একটু বসে। এরপর রুমে যায় ঘুমাতে।

তিন্নীর মা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, এরপর তিন্নী বুঝতে পারে তার খাটের নিচে কেউ লুকিয়ে আছে। লোকটি খাটের নিচ থেকে বের হয়ে এক পর্যায়ে তিন্নীকে জাপটে ধরে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, এসময় চিৎকার দেয় তিন্নী। ওই লোকটি ছিল জামিরুল। 

হালিমা বেগম বলেন, 'আমরা তখন বুঝতে পারি বাসার চারপাশে জামিরুলের অনেক সহযোগী রয়েছে এবং তারা আমাদের বলতে থাকে- কোনও হৈ চৈ করবি না। আজ সবাইকে মেরে ফেলবো।'

এর পরের ঘটনার বর্ণনা দেন তিন্নীর মেজো বোন মিন্নী। তিনি জানান, বোনের চিৎকারে তিনি ছুটে যান তিন্নীর রুমের সামনে। কিন্তু রুম ছিল ভেতর থেকে আটকানো।

তিনি বলেন, 'অনেক চেষ্টা করে দরজার লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি সেখানে জামিরুল। তখনো তারা ধস্তাধাস্তি করছে। বাধা দিতে গেলে সে আমাকে মারতে আসে। আমি অন্য রুমে গিয়ে আত্মরক্ষা করি। এরপর অনেক সময় চলে তিন্নীর রুমে তাণ্ডব। পরে রুম থেকে বের হয়ে আমাকে ও আমার মাকে খুঁজতে থাকে সে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের উপস্থিতি টের পেয়ে রাত ১১টার দিকে জামিরুল পালিয়ে যায়।'

মা হালিমা বেগম জানান, জামিরুল বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তিন্নী নিচে তার রুমে আসে। 'আমাকে সে প্রশ্ন করে- বাইরের লোক কেন আমার রুমে প্রবেশ করল মা? আমার তো সব শেষ! আমার আর বেঁচে থেকে লাভ কি? এই বলে সে নিজের রুমে চলে যায়। এরপর পর রাত ১২টার দিকে টের পাই তিন্নী রুমে ফ্যানের সাথে ঝুলছে' বলেন হালিমা বেগম।

এক প্রশ্নের জবাবে তিন্নীর বোন মিন্নী জানান, জামিরুল যখন তার স্বামী ছিল তখন এই বাড়িতে এলে ওই রুমেই থাকতেন। হয়তো জামিরুল ভেবেছিল এখনো ওই রুমেই তিনি থাকেন।

মিন্নি বলেন, 'আমাকে তুলে নিতে বা মেরে ফেলতে সে এ রুমে লুকিয়ে ছিল। তালাকের পর সে বিশ্বাস করেনি, আমার আবার বিয়ে হয়েছে। সে আমাকে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা চালাতে থাকে। আমার কাছ থেকে মেয়েকে সে জোর করে তার কাছে নিয়ে যায়। এ নিয়ে কয়েকবার তিন্নীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।'

পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন তিন্নী: তিন্নীদের ভাই না থাকায় চাকরি পেয়ে পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন তিন্নী। কাঁদতে কাঁদতে তিন্নীর মা বলেন, 'আমি আর কী নিয়ে থাকব। অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বিয়ে দিতে। কিন্তু সে কোনো সময় রাজি হয়নি। শুধু বলতো, মা দোয়া করো আমি চাকরি পেয়ে সংসারের যেন হাল ধরতে পারি।'

ঝিনাইদহের শৈলকুপার শেখপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত ইউসুফ আলীর মেয়ে তিন্নী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

তিন্নীর স্বজনদের অভিযোগ, তার বোনের সাবেক স্বামী শেখপাড়া গ্রামের কুনুরুদ্দীনের ছেলে জামিরুল ও তার তিন সহযোগী জোর করে তিন্নীদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এসময় তিন্নীর শোবার ঘরে ঢুকে তার শ্লীলতাহানি করায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক জামিরুল।

১৩৫ ভোটের মধ্যে ৯৪ ভোট পেয়ে ৪র্থবারের মতো বাফুফের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন


এই নিউজ মোট   85    বার পড়া হয়েছে


নারী ধর্ষণ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.