12:05am  Wednesday, 27 Jan 2021 || 
   
শিরোনাম



আজ মহিমান্বিত রবিউল আউয়াল মাসের ১৯তম দিন
৬ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ২২ কার্তিক ১৪২৭, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২



হিজরি রবিউল আউয়াল মাসের আজ ১৯তম দিন। ‘রবিউল আউয়াল’ শব্দের অর্থ প্রথম বসন্ত। ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, যখন আরবি মাসের নাম রাখা হয়, তখন আরবের ঋতু-প্রকৃতিতে বসন্তের রূপ-শ্যামলিমা বিরাজ করছিল। সে সূত্র ধরে এবং বসন্তের সূচনাপর্ব হওয়ায় হিজরি সালের তৃতীয় মাসের নাম ‘রবিউল আউয়াল’ রাখা হয়।

আবহমানকাল থেকে আরবে রবিউল আউয়াল বসন্তের সূচনাপর্ব হিসেবে স্বীকৃত। কালের পরিক্রমায় এই মাস ও বসন্তের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। মূলত চান্দ্র মাস ঘূর্ণায়মান হওয়ায় এমনটা হয়েছে। কিন্তু প্রতি বছর রবিউল আউয়াল ইমানদারের দুয়ারে নবীপ্রেমের বার্তা নিয়ে আসে। ফলে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ মাসে মুমিন-হৃদয়ে নবীপ্রেমের ফল্গুধারা অধিক পরিমাণে বইতে থাকে।

এ মাসেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেন। তার আগমনে প্রকৃতি-বিহারে আনন্দের হিল্লোল জেগেছিল। মানবতা পেয়েছিল জন্মের সার্থকতা। তিনি ছিলেন রহমাতুলিল আলামিন বা সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

মহানবী (সা.) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তার জন্মে গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যার স্মরণ সব জাতি, সব যুগে করেছে। কিন্তু কবে এই মহামানব জন্মগ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে সব আলোচনা রবিউল আউয়াল মাস ঘিরেই হয়ে থাকে।

ইসলামের ইতিহাসে ১২ রবিউল আউয়াল অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। বিশেষত দুটি কারণে রবিউল আউয়াল ও ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, সব ইতিহাসবিদের ঐকমত্য বর্ণনা মতে, এই দিনেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী এই ১২ রবিউল আউয়ালই মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরম দুঃখের কথা হলো, এ মাসেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এবং আল্লাহর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন। ফলে ফিরে ফিরে রবিউল আউয়াল এলে মুমিনের হৃদয়ে প্রিয় নবীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সামগ্রিক জীবন-বৃত্তান্ত ভেসে ওঠে।

নবীপ্রেমের এসব প্রসঙ্গ ও কারণে এ মাসে মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর স্মরণ একটু বেশিই করেন। তাকে নিয়ে অসংখ্য কবিতা ও স্মৃতিগাথা রচনা হয়। বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও সিরাত বা তার জীবনবিষয়ক গ্রন্থ রচনা করা হয়। তার স্বর্ণালি-বর্ণালি জীবনালেখ্য নিয়ে বিভিন্ন পরিসরে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হয়।

১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন মুসলিম দেশে সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিমপ্রধান অন্যান্য দেশে মিলাদুন্নবীর চেয়ে সিরাতুন্নবীর আলোচনাই বেশি হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশেও ১২ রবিউল আউয়াল সরকারিভাবে ছুটির প্রচলন রয়েছে। এবার বাংলাদেশে পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল হয়েছে ৩০ অক্টোবর ২০২০।

সর্বাধিক প্রণিধানযোগ্য কথা হলো, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, প্রেম-ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের সঙ্গে নির্দিষ্ট নয়। কোনো একক মাস বা তারিখের চৌহদ্দিতে বন্দি নয়। বরং তার আদর্শ ও ভালোবাসা নিত্যদিনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হওয়া অত্যাবশক। তার যুগোপযোগী আদর্শের সামনে অন্য যেকোনো ধরনের আদর্শ গৌণ। তার আদর্শ পৃথিবীর সর্বকালের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক মানবতাঘনিষ্ঠ আদর্শ। যার তুলনা শুধুই তার ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ বা সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। পৃথিবীর উদার চিন্তাশীল মহল একবাক্যে তা স্বীকার করে।

মার্কিন লেখক মাইকেল এইচ হার্ট যুক্তিসংগত কারণেই মহানবী (সা.)-কে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের স্থান দিয়েছেন। বস্তুত চিন্তা-কর্ম ও অবদানের বিচারে মাইকেল এইচ হার্ট তা দিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও তার এ দেওয়া বা না দেওয়া মহানবী (সা.) এর সাফল্যের মানদন্ড বা মাপকাঠি নয়। মহান আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের আশা রাখেন এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেন, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ২১)

মৃত্যুর সময় বিশ্বনবী (সা.) কিছু গৃহস্থালি ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র রেখে গিয়েছিলেন। আর রেখে গিয়েছিলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত-কালজয়ী আদর্শ। সুতরাং মানবতার প্রতিটি বেলা-ক্ষণে, প্রত্যেকের স্মরণে-মননে এবং জীবন পরিক্রমার প্রতিটি পর্ব ও অঙ্গনে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ্। রয়েছে তার জ্যোতির্ময় ও দীপ্তি ছড়ানো সুমহান আদর্শ-নীতি।

মানবজীবনের ঐকান্তিক সফলতা নিহিত আছে তার আদর্শে। আর মুসলিম হিসেবে তাকে অনুসরণ করা, তার দেখানো পথে চলা এবং তার আদর্শের বাস্তবায়ন ইমানের অনিবার্য দাবি। তাকে ভালোবাসা ও তার আনুগত্য করাই হচ্ছে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী) বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)

বছর ঘুরে রবিউল আউয়াল আমাদের দুয়ারে হাজির। এ মাসে নতুন প্রাণে উজ্জীবিত হওয়া সবার কর্তব্য। মুমিনের সামনে স্বচ্ছ আয়নার মতো মহানবী (সা.)-এর আদর্শ বাস্তব চিত্র স্থির হয়ে আছে। সে চিত্রের সঙ্গে নিজেদের জীবনের রূপটা পরখ করে দেখলেই প্রত্যেকের স্ব-স্ব পরিচয় ভেসে উঠবে। আমাদের জীবনচিত্র সে ছাঁচের কাছে কতটা বেমানান, তা সততই স্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে।

আদর্শিক বিচারে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পথ-পদ্ধতি ও সুন্নাহ অনুসরণের বিকল্প নেই। আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে রাসুল (সা.)-এর জীবনধারায় রয়েছে অনন্ত পাথেয়। পার্থিব মোহাক্রান্ত অন্ধকারে আলোকদিশা পাওয়ার প্রোজ্জ্বল জ্যোতি একমাত্র তার আদর্শেই বিরাজমান। জীবনের সব ঝঞ্ঝাট, সংকট, হতাশা ও অপূর্ণতাকে জয় করতে রাসুল (সা.) জীবনাদর্শের ডাকে সাড়া দেওয়া আবশ্যিক। তার অনির্বাণ, সততা ও ধ্রুপদী আদর্শ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেই কেবল একজন মুমিন নবীপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণতা পেতে পারে। আর কিয়ামত পর্যন্ত আগত-অনাগত সব মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তি, শান্তি ও চিরন্তন সফলতার চিরায়ত প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকার রয়েছে তার আদর্শ ও আনুগত্যে।

লেখক-মুফতি মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

আজ ৬ নভেম্বর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা


এই নিউজ মোট   89    বার পড়া হয়েছে


ধর্ম



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.