08:28am  Thursday, 21 Jan 2021 || 
   
শিরোনাম



কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন মারা গেছেন
৩ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার, ২০ পৌষ ১৪২৭, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২



প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই। রোববার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি..... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। কথা সাহিত্যে অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
বিকেলে রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাহিত্য ও শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী রাবেয়া খাতুনের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দীর্ঘ কর্মময় জীবনে রাবেয়া খাতুন সাহিত্যের সকল শাখায় সফলভাবে বিচরণ করেছেন। উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথাসহ চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতেও বিচরণ রাবেয়া খাতুনের। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'মেঘের পরে মেঘ' অনুসরণে নির্মিত হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। তার অমর সৃষ্টি 'মধুমতি' এবং 'কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টিও প্রশংসিত হয়েছে সব মহলে।
রাবেয়া খাতুন উপন্যাস লিখেছেন ৫০টিরও বেশি। এ পর্যন্ত চার খণ্ডে সংকলিত ছোটগল্প সংখ্যায় ৪০শ'র বেশি। ছোটদের জন্য লেখা গল্প-উপন্যাসও সংখ্যায় কম নয়। রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের ভ্রমণ সাহিত্যের প্রধানতম লেখক। প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান। ক্ষয়িষ্ণু তাঁতী সম্প্রদায়ের জীবন সংকট ও উঠতি মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্ব জিজ্ঞাসার মধ্যে ব্যক্তিকে আবিষ্কার করেছিলেন রাবেয়া খাতুন এই উপন্যাসে।
রাবেয়া খাতুন ভ্রমণ সাহিত্য রচনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করেছেন বলে তার ভ্রমণ সাহিত্যের বইও অনেক। বেশকিছু আত্মজৈবনিক স্মৃতিমূলক রচনা লিখেছেন। একাত্তরের নয় মাস (১৯৯০) বইয়ে লিখেছেন একাত্তরের শ্বাসরূদ্ধকর দিনগুলোর কথা। তার প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা ১শ'রও বেশি।
তার লেখনী বাংলা সাহিত্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছেন তেমনি ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য পুরস্কারেও। সাহিত্যচর্চার জন্য পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), হুমায়ূন স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯), কমর মুশতারী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯৪), শের-ই-বাংলা স্বর্ণপদক (১৯৯৬), ঋষিজ সাহিত্য পদক (১৯৯৮), লায়লা সামাদ পুরস্কার (১৯৯৯) ও অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯)। ছোটগল্পের জন্য পেয়েছেন নাট্যসভা পুরস্কার (১৯৯৮)।
সায়েন্সফিকশন ও কিশোর উপন্যাসের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন শাপলা দোয়েল পুরস্কার (১৯৯৬), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার (১৯৯৮), ইউরো শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০০৩)। ছোটগল্প ও উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে প্রেসিডেন্ট (১৯৬৬), কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি (২০০৩), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), ধ্রুবতারা, মধুমতি (২০১০)। টিভি নাটকের জন্য পেয়েছেন টেনাশিনাস পুরস্কার (১৯৯৭), বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কার, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলেনিয়াম অ্যাওয়ার্ড (২০০০), টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ডসহ (২০০০) তিনি এ পর্যন্ত অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
লেখালেখির পাশাপাশি শিক্ষকতা এবং সাংবাদিকতাও করেছেন রাবেয়া খাতুন। সাংবাদিকতার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। ইত্তেফাক, সিনেমা পত্রিকা ছাড়াও তার নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশ দশকে বের হতো 'অঙ্গনা' নামের একটি মহিলা মাসিক পত্রিকা। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, চলচ্চিত্র জুরী বোর্ড, লেডিস ক্লাব, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, মহিলা সমিতিসহ অসংখ্য সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন রাবেয়া খাতুন।
১৯৩৫ সালে বিক্রমপুরে জন্ম রাবেয়া খাতুনের। তার বাবা মৌলভী মোহাম্মদ মুল্লুক চাঁদ এবং মা হামিদা খাতুন। আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (বর্তমানে মাধ্যমিক) পাস করেন ১৯৪৮ সালে। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই তার বিয়ে হয় দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা 'সিনোম'র সম্পাদক এটিএম ফজলুল হকের সঙ্গে। এটিএম ফজলুল হক চলচ্চিত্রকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং দেশের প্রথম শিশুতোষ সিনেমা 'প্রেসিডেন্ট' নির্মাণ করেন। এ টিএম ফজলুল হক ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর প্রয়াত হন। এই দম্পতির চার সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের চিঠি
এই নিউজ মোট   1670    বার পড়া হয়েছে


শিল্প-সহিত্য



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.