08:56pm  Monday, 26 Oct 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের গাড়িচালক রিমান্ডে     »  দেশে ১৫ জনসহ করোনায় মৃত্যু ৫৮১৫ জন, শনাক্ত ১৪৩৬ জনসহ আক্রান্ত ৪০০২৫১ জন     »  হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মেরে দাঁত ভেঙে দিল     »  আজ ২৬ অক্টোবর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা     »  দিনাজপুরের হিলিতে দু’দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু টুর্ণামেন্ট     »  বীরগঞ্জে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বাঁচাতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন     »  করোনা পরিস্থিতির কারনে সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের বদলি বন্ধ     »  মাদক সেবনের ব্যবস্থা রেখে ভেতরে চলত ক্যাসিনো, বাইরে ক্যারম বোর্ড      »  নাজমুল একাদশকে হারিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ     »  শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পিকারের আহ্বান-দক্ষ করে গড়ে তোল নিজেকে    



“মামুন হত্যার রহস্য কোথায়” এর ১ম পর্ব (ভিডিও)



বিশেষ প্রতিবেদক: পাচ বছর যাবৎ মামুন হত্যার বিচার চেয়ে ধারে ধারে ঘুরছেন একটি পরিবার, মামুনের শিশু সন্তানরা যখন জানতে চায় তাদের বাবা কোথায় তখন মা, কাকা আর দাদা দাদির চোখের পানি ফেলা ছাড়া কোন জবাব থাকেনা। একটি হত্যার বিচার প্রার্থনা করতে করতে এখন আসলে তাদের চোখের পানিও শেষ হয়ে গেছে। পরিবার চায় মামুন হত্যার সুস্ঠ তদন্ত করে বিচার হোক। যাতে করে মামুনের বাচ্চাদের কাছে বলতে পারে তাদের বাবার মৃত্যুর কারন। তাদের বিশ্বাষ দেরিতে হলেও তদন্তের মাধ্যমে মশিউর রহমান মামুন হত্যার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। তারা পাবে ন্যায় বিচার, প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাষন। এই বিষয়ে ৩০ সেপ্টম্বর ২০২০, জাতীয় প্রেসক্লাবের "জহুর হোসেন চৌধুরী হলে" মোঃ মশিউর রহমান মামুন হত্যাকারী জাগরণ মাদকাসক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রের মালিক মেহেদি হাসান চন্দন ও তার সহযোগী রুম্মন, রাসেল, নাজমুল আর টিটোদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মামুনের পরিবার। তারই সুত্রে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন তৈরি করে oknews24bd.com। ধারাবাহিক প্রতিবেদন এবং ভিডিও প্রামান্যচিত্র্রে আজকে দেখবেন “মামুন হত্যার রহস্য কোথায়” এর ১ম পর্ব।

জানতে চাইলে পরিচয় দিয়ে মশিউর রহমান মামুনের মা হাছেন বানু বলেন, আমার দুই ছেলে এক মেয়ে, বড় ছেলে হাবিব গাড়ি চালায় আর ব্যবসা করে, আর মশিউর রহমান মামুন আমাদের সাথেই এই বাসায়ই থাকতেন, হঠাৎ করে পাগলের মতো আচরন শুরু করে মামুন, অনেকের সাথে আলোচনার পর ছেলের সুস্থতার আশায় ১লা অক্টোবর ২০১৫ সালে কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত জাগরন মাদকাশক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রে ভর্তি করে দেই। জাগরন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় মামুনকে দেখতে দেড় মাস কেউ না আসার জন্য। জাগরনের কথামতো ছেলের সুস্থতার আশার ফিরে আসেন মামুনের মা-বাবা।

কিন্তু মামুনকে আর দেখা হলোনা তার পরিবারের, এক মাস ১৪ দিনের মাথায় ২০১৫ সালের ১৪ সভেম্বর মামুনের মার নাম্বারে প্রায় ৫০টি ফোন আসে, ফোন রিসিভ করলে মামুন অসুস্থতার কতা জানায়, কিছুক্ষন পরেই আবার ফোন আসলে মামুনের মা জানতে চায় তার ছেলে কেমন আছ, উত্তরে জানায়, মামুনকে ঢাকা মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনি আসেন আসলেই দেখতে পাবেন মামুন কেমন আছে। মামুনের শাশুরিকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে যায় মামুনের মা। জাগরন মাদকাশক্ত নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রের কাউকে না পেয়ে হাসপাতালের দারোয়ানের কাছে জানতে চায় কামরাঙ্গিরচর থেকে কোন রুগি আসছে কিনা, তাদেরকে জানানো হয় রুগী না একটি লাশ আসছে। মামুনের শাশুরী গিয়ে দেখতে পায় মামুনের শরিরে আঘাতের চিঞ্হ সন্মলিত লাশ পরে আছে। কিন্তু আমাকে আর দেখতে দেওয়া হয়না মামুনকে।

বিষয়টি ফোনে মামুনের বাবা আর বড় ভাইকে জানায় মামুনের মা। বড় ভাই হাবিবুর রহমান তার বাবাকে নিয়ে ছুটে যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ততক্ষণে মামুনের লাশ নেয়া হয় ডোম ঘরে। তারাও ডোম ঘরে গিয়ে শনাক্ত করে তাদের আপনজন মামুনকে।

সন্তানকে হাড়িয়ে ভেঙ্গে পরে মা-বাবা, দিশেহারা হয়ে যায় বড় ভাই হাবিব। এখন কি করবে দকিবিদিক হারিয়ে ফেলে মামুনের পুরো পরিবার। খবর দেয়া হয় মামুনের স্ত্রীকে, মামুনের স্ত্রী তার মাছুম তিন সন্তানকে নিয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে বলে জানান মামুনের ভােই হাবিব। মামুনের লাশ কিভাবে পাবে জানতে চায় হাবিব, হাসপাতাল থেকে জানায়, থানায় মামলা করে এসে লাশ নিতে হবে। পুরো পরিবার ছুটে যান কামরাঙ্গিরচর থানায়। মামুনের মা বলেন,  সমস্ত দিন অপেক্ষা করেও মামলা করতে পারলামনা। হাবিব বলেন, ওসি আমাকে জানান, তোমার ভাই সুইসাইড করছে, এইটা মামলা হবেনা, হাবিবুর বার-বার বলেন যে আমার ভাই আন্তহত্য করেনি, আমার ভাইয়ের শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে। কিন্তু ওসি কোন প্রকারেই মামলা নিবেননা, অবশেষে হাসপাতালের কোন রিপোর্ট ছাড়াই কামরাঙ্গিরচর থানার ওসি আন্তহত্যার একটি জিডির কপি দড়িয়ে দিয়ে লাশ নিয়ে দাফন করতে বলেন। বাদ্য হয়ে আমরা হাসপাতালে এসে লাশ নিয়ে দাফন করি। কিন্তু পাঁচ বছরেও আমাদের জানা হলোনা মামুন কেন সুইসাইড করবে। প্রশ্ন থেকে যায় তখনকার ওসি মহসিন আলম আগে থেকেই কিভাবে জানেন মামুন আন্তহত্য করেছে।

মামুনকে কারা মেরেছে জানতে চাইলে মামুনের বাবা মোঃ মহব্বত আলী বলেন, মামুন যদি আন্তহত্য করে থাকে তাহলে মামুন যেদিন মারা যায় সেই দিন থেকে জাগরন মাদকাশক্ত নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রটি বন্ধ হেয়ে গেছে? প্রশ্ন রাখেন মহব্বত, তিনি আরো প্রশ্ন রাখেন, কামরাঙ্গিরচরে অবস্থিত মাদকাশক্ত নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রটিতে প্রায় ১৫০ জনের মতো রুগী ছিল, মামুন মারা যাবার দিনই সকল রুগীদের উন্মুক্ত করে হাসপাতালটিতে কেন তালা মেরে দেয়া হয়েছে? তাছাড়াও মামুনের শরিরে প্রচুর আঘাতের চিন্হ রয়েছে, তার কান, নাক, গলা দিয়ে রক্ত পরেছে। তার মুখে আঘাতের দাগ রয়েছে, হাতের কনুই ভাঙ্গা ছিল, তিনি আরো বলেন, মনে হয় মামুনকে লোহার রড দিয়েও পিটিয়ে মারার মতো মনে হয়েছে। মামুনের বাবা আরো বলেন, মামুন মারা যাবার পর আমি বার-বার কামরাঙ্গিরচরে অবস্থিত জাগরন মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গেছি, সবসময়ই তালা মারা দেখি, আসে-পাশের মানুষের কাছে তাদের কথা জানতে চাইলে এলাকার কোন মানুষ মুখ খুলতে রাজি হয়নি। এলাকার মানুষ বলেন, মুরুব্বি আমরা এখানে থাকি অনেক কিছু জানলেও আমরা বলতে পারিনা, সংযুক্ত করেন বলে জানান মামুনের বাবা। ঠিক তেমনিভাবেই অজানা রয়ে গেল মামুন হত্যার রহস্য।

মামলা হয়েছে কিনা এবং এবং মামলার বর্তমান অবস্থা কি জানতে চাইলে মামুনের মা বলেন, পরে আমার বড় ছেলে হাবিব কোর্টে মামলা করেছে এবং বর্তমানে মামলাটি ডিবিতে আছে। আর মামুনের ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, থানায় মামলা না নিলে পরবর্তিতে আমি বাদি হয়ে কোর্টে মামলা করি, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় কামরাঙ্গির চর থানার ওসিকে, ওসি অপমৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন, আমরা নারাজির পিটিশন দিলে কোর্ট দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে, পিবিআইও থানার সাথে একমত হয়ে কোন তদন্ত না করেই রিপোর্ট জমা দেয়, আবারো আমরা না রাজি পিটিশন দিলে দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে, তাতেও বাদির আশানুরুপ রিপোর্ট না আসায় বর্তমানে সাত মাস যাবৎ মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধিন রয়েছে। এভাবেই পেরিয়ে গেল পাঁচটি বছর কিন্তু আমলে নেয়া হলোনা মামুন হত্যার রহস্য।

মামুন হত্যার বাদি হাবিবুর রহমান হাবিব প্রশাসনকে অনুরোধ করে ডিবির উদ্দ্যেশে বলেন, বর্তমানে আমাদের মামলাটি আপনাদের কাছে তদন্তধীন আছে। আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে আশা করবো, আপনারা আমাদের ভাইয়ের এবং আমার ভাইয়ের সন্তানদের সুবিচার পেতে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সঠিকভাবে আমার ভাই মশিউর রহমান মামুনের হত্যার তদন্ত করে সত্য রির্পোট পেশ করবেন। আমরা আরো আশা করবো আপনারা আমার ভাই হারা মা-বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা হারা সন্তানদের বাবার বিচারে সঠিক ভূমিকায় থেকে সুষ্ঠ তদন্ত করবেন। আমরা চাই এভাবে যেন কোন মা-বাবার বুক খালি না হয়, কোন ভাই যেন ভাই হারা না হয়, কোন মাছুম সন্তান যেন বাবাকে না হারায়। দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক তদন্ত করে মামুন হত্যর রহস্য উদঘাটন করুন, আমি আশা করি আপনাদের সঠিক তদন্তের মা্ধ্যমে আমার পরিবার এবং মামুনের সন্তানরা পাবে ন্যায় বিচার, প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন।

চলবে............................

অনুসন্ধানী: ৬ বছরেও চাকরিচ্যুত হয়নি শিবগঞ্জেে মনিরুল হত্যার মৃৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী

আজ ২৪ অক্টোবর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা


এই নিউজ মোট   461    বার পড়া হয়েছে


অনুসন্ধানী



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.